আল্লাহর অলিকে মহব্বতের প্রতিদান

কামেলে মোকাম্মেল পীরের সাথে অবশ্যই মহব্বতের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করে তরিকা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে মহান আল্লাহ অলির কাছে গোলামীর ওসিলায় ঐ ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করে উনার সাথী করে দেবেন। এ জন্য মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

إِنَّ الَّذينَ ءامَنوا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ سَيَجعَلُ لَهُمُ الرَّحمٰنُ وُدًّا ُ

অর্থ: নিশ্চয় ঔইসব লোক যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে অবিলম্বে তাঁদের জন্য পরম করুণাময় (পরস্পরের মধ্যে) সৃষ্টি করবেন ভালোবাসা। (সূরা মরিয়ম, আয়াত-৯৬)

হুজুর (সাঃ) ইরশাদ করেন,

يَضَعُ اللهُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةَ مَنَابِرَ مِنْ نُوْرٍ فَيُجْلِسُهُمْ عَلَيْهَا فَيَجْعَلُ وُجُوْهَهُم نُوْرًا وَثِيَابَهُمْ نُوْرًا يَفْزَعُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يَفْزَعُوْنَ وَهُمْ أَوْلِيَاءُ اللهِ الَّذِيْنَ لَاخَوْفُ عَلَيْهِمْ وَلَاهُمْ يَحْزَنُوْنَ ْ ُ

অর্থ: একদল লোকের জন্য কিয়ামতের দিন আরশে মুআল্লার চতুর্দিকে আসন স্থাপন করা হবে। তাঁদের মুখমন্ডল হবে চন্দ্রের মতো উজ্জ¦ল। সবাই ভীত হলেও তারা ভীত হবেনা, সন্ত্রস্ত হবেনা, ভয়-ভীতি, দুঃখ-দুর্দশা থাকবেনা। তারা কারা জিজ্ঞাসা করলে উত্তর আসবে, তারা আল্লাহর অলি এবং যারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবেসে ছিলো। (আহমদ ইবনে হাম্বল: আল মুসনাদ, ৩৭:৫৪১, হাদিস-২২৯০৬)

নবীজী (সাঃ) ইরশাদ করেন,

إِنَّ حَوْلَ الْعَرْشِ مَنَابِرُ مِنْ نُوْرٍ عَلَيْهَا قَوْمٌ لِبَاسُهُمْ نُوْرٌ وَوُجُوْهُهُمْ نُوْرٌ لَيْسُوْا بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّوْنَ وَالشُّهَدَاءُ فَقَالُوْا : يَا رَسُوْلَ اللهِ : فَمَنْ هُمْ ؟ فَقَالَ : هُمْ الْمُتَحَابُّوْنَ فِيْ اللهِ وَالْمُتَجَالِسُوْنَ فِيْ اللهِ وَالْمُتَزَاوَرُوْنَ فِيْ اللهِ ُ

অর্থ: একদল লোককে আরশে মুআল্লার চতুর্দিকে নূরের মিম্বরের ওপর উপবিষ্ট দেখা যাবে, যাদের চেহারা ও পোশাক হবে নূরের, অথচ তাঁরা নবী বা শহীদ নয়। তাঁদের মর্যাদা দেখে নবী-রাসুল ও শহীদগণও ঈর্ষান্বিত হবেন। তাদের গুণাবলী বা পরিচয় সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তর আসবে, তারা আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরকে ভালোবাসে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে মাহফিলে বসে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরস্পরের সাথে সাক্ষাত করে। (১. তাবরানী: মুজামুল কবীর, ৩:৪৬৮; ২. আহমদ ইবনে হাম্বল: আল মুসনাদ, বাবু হাদিসী আবি মালেক আশআরী, ৪৬:৩৭১, হাদিস-২১৮২১)

হাদিসে কুদসীতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

قَدْ حَقَّتْ مَحَبَّتِىْ لِلَّذِيْنَ يَتَحَابُّوْنَ مِنْ أَحْلِيْ وَحَقَّتْ مَحَبَّتِىْ لِلَّذِيْنَ يَتَصَافُّوْنَ مِنْ أَحْلِىْ وَحَقَّتْ مَحَبَّتِىْ لِلَّذِيْنَ يَتَزَاوَرُوْنَ مِنْ أَحْلِىْ وَحَقَّتْ مَحَبَّتِىْ لِلَّذِيْنَ يَتَبَاذَلُوْنَ مِنْ أَحْلِىْ وَحَقَّتْ مَحَبَّتِىْ لِلَّذِيْنَ يَتَنَاصَرُوْنَ مِنْ أَجْلِى ُ

অর্থ: যারা আমার উদ্দেশ্যে পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাত করে, তাঁদের জন্য আমার সাহায্য সুনিশ্চিত। আল্লাহর উদ্দেশ্যে যারা পরস্পরকে ভালোবেসে ছিলো, হাশরের দিন আল্লাহতায়ালা তাঁদের ডেকে আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। (১. আহমেদ ইবনে হাম্বল: আল মুসনাদ, বাবু হাদিসী আমর ইবনে আবাসা, ৩৯:৪৩২, হাদিস ১৮৬২১; ২. ঈমাম গাজ্জালী: ইয়াহ ইয়াউ উলূমিদ্দীন, ৩:১৫৮; ৩. বায়হাকি: শুআবুল ঈমান, বাবু কিসসাতি ইবরাহিম ফী মুআনাকা, ১৯:৪, হাদিস-৮৭১২)

রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন,

أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ ُ

অর্থ: তুমি যাকে ভালোবাস তার সাথেই তুমি জান্নাতে থাকবে। (১. বুখারি: আস্ সহীহ, বাবুল ক্বদায়া ওয়াল ফাতায়া ফীত তরীক, ১৩:৯১, হাদিস-৪৭৭৫; ২. তাবরিযী: মিশকাতুল মাসাবীহ, বাবুস সালাম, ১ম পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা.৮৫, হাদিস-৫০০৯; ৩. আহমদ ইবনে হাম্বল: আল মুসনাদ, বাবু মুসনাদি আনাস ইবনে মালেক, ২৫:৩৪৭, হাদিস-১২৩০১)

শেষ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ইরশাদ করেন,

اَلْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ ُ

অর্থ: যে যাকে ভালোবাসে হাশর-নাশর তার সাথেই হবে। (১. বুখারি: আস্ সহীহ, বাবু আলামাতি হুব্বিল্লাহি, ১৯:১৪৫, হাদিস-৫৭০২; ২. মুসলিম: আস্-সহীহ, বাবুল মারয়ি মাআ মান আহাব্বা, ১০:৯৫, হাদিস-৪৭৭৯; ৩. তিরমিজি: আস্ সুনান, বাবু মা জাআ আন্নাল মারআ মাআ মান আহাব্বা, ৮:৩৯৬, হাদিস-২৩০৮; ৪. আবু দাউদ: আস্ সুনান, বাবু ইখবারির রজুলি, ১৩:৩৩২, হাদিস-৪৪৬২)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

يَومَ نَدعوا كُلَّ أُناسٍ بِإِمٰمِهِم ُ

অর্থ: হাশরের দিন প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের ঈমামের সাথে আহ্বান করা হবে। (সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত-৭১)

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسولَ فَأُولٰئِكَ مَعَ الَّذينَ أَنعَمَ اللَّهُ عَلَيهِم مِنَ النَّبِيّۦنَ وَالصِّدّيقينَ وَالشُّهَداءِ وَالصّٰلِحينَ وَحَسُنَ أُولٰئِكَ رَفيقًا ُ

অর্থ: এবং যে আল্লাহ ও রাসুলের অনুসরণ করবে সে তাঁদের সঙ্গী হবে যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দিকগণ (সত্যনিষ্টগণ), শহীদ এবং সৎকর্মপরায়ন ব্যাক্তিগণ। এরা কতই উত্তম সঙ্গী। (সূরা নিসা, আয়াত-৬৯)

পরিশেষে একথা বলা যায়, যারা খাঁটিভাবে আল্লাহ-রাসুল (আঃ) গণের আনুগত্য করতে চায়, তারা যেন কালবিলম্ব না করে কামেলে মোকাম্মেল আউলিয়ার অনুসন্ধান করে তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহতায়ালা এজন্য বলেছেন,

إِنَّ الَّذينَ يُبايِعونَكَ إِنَّما يُبايِعونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوقَ أَيديهِم ُ

অর্থ: (মহান আল্লাহ রাসুলেপাক সাঃ কে বলেছেন) ওই সব লোক যারা আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছে, প্রকৃতপক্ষে তারা তো আল্লাহরই হাতে বায়আত গ্রহণ করেছে। (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত-১০)