Pertanyaan yang Sering Diajukan

প্রশ্ন ১ : শরীয়ত, মারেফত, হকিকত ও তরিকত কি ?

উত্তর :

শরীয়ত
শরীয়ত শব্দের শাব্দিক অর্থ- আত্মশুদ্ধি হয়েছে এমন আত্মা; আত্মা যার সুন্দর শরীয়ত তার সুন্দর। শরীয়ত ও সুন্নতের সাথে একজন মানবের মুক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। মহান আল্লাহর সঙ্গে নৈকট্য, ফানাফিল্লাহ ও সম্পর্ক তৈরি করে সালাতে আল্লাহকে সামনে রেখে সেজদা করার নাম শরীয়ত। শরীয়ত জাগতিক পরিভাষা। শরীয়ত আল্লাহ ও রাসুলপাক (সাঃ)-এর আদর্শের সৌন্দর্য্যরে পথ। আল্লাহ ও রাসুলপাক (সাঃ)-এর আদর্শ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী শরীয়তের পথ থেকে অনেক দূরে চলে যায়।

মারেফত
এলমে মারেফত আড়াল, অপ্রকাশ্য ও গোপন। যিনি আল্লাহর সঙ্গে নৈকট্য ও ফানাফিল্লাহ লাভ করেন, তিনি ও আল্লাহ ব্যতীত কেহ বুঝেনা এবং জানেনা এর নাম মারেফত। যখন প্রথম রূহ সৃষ্টি করেন মহান আল্লাহ তখন তা মারেফতে ছিলো। সেখান থেকে যখন পিতার কাছে আসে তখনও মারেফতে ছিলো, যখন মায়ের গর্ভে আসে তখনও মারেফতে ছিলো। একজন মানুষ মারেফত থেকে শরীয়তের দেশে আসে, শরীয়তের দেশ থেকে মারেফতে বা গোপন দেশে ফিরে যায়, এটা হলো মারেফতের দেশ “আলমে বারযাখ”। আলম অর্থ দেশ ও বারযাখ অর্থ চেহারা এবং এই দেশটি আল্লাহর আর এতদসংক্রান্ত শিক্ষা অন্তরে নিয়েই যে দুনিয়া থেকে প্রস্থান করে, সে আল্লাহর দেশে যায়, আল্লাহর সাথে দেখা হয় ও তাঁর চেহারা মুবারক দর্শন করে। এই অনন্ত দেশের নাম আখেরাত- সুখের জগৎ, যে শিক্ষা প্রদানে একমাত্র পীর-আউলিয়া ব্যতীত আর কেউ সক্ষম নহে। যে রহস্য একমাত্র মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানেন না।

হকিকত
হকিকত শব্দের অর্থ হক। একটি বৃক্ষের ফল হকিকত, একটা ব্যবসায় যদি মুনাফা আসে এটা বলা যায় হকিকত। যখন সালাত কায়েমে আল্লাহকে দেখতে পাওয়া যায় তখন সালাত কায়েম হয়। কোন কর্মের ফল না আসা, না দেখা বা না পাওয়া আন্দাজী পথের নাম হকিকত নয়। হকিকত শব্দের শাব্দিক অর্থ সালাতে দীদার, যার সালাতে দীদার হয় তার হকিকত লাভ হয়।

তরিকত
তরিকা শব্দটি সিরাত শব্দ থেকে উৎপত্তি। তরিকত শব্দের শাব্দিক অর্থ পথ বা রাস্তা। এই রাস্তা জাগতিক কোন ইট-পাথরের রাস্তা নয়; এটা অলৌকিক, ঐশি ও রূহানী জগতের রাস্তা, যেখানে আল্লাহ ও রাসুলপাক (সাঃ) আছেন। সেইখানে বা সে রাস্তা দিয়ে মানুষকে পৌঁছানোর জন্য একটি যানবাহন অনিবার্য। যানবাহনটির নাম “খাকেতন এসক”, যাকে বলা হয় পথপ্রদর্শক। এ পথপ্রদর্শককে বাংলা ভাষায় মুরুব্বি, ফারসি ভাষায় পীর, আরবী ভাষায় মুর্শিদ বলে। এই পথের পথপ্রদর্শক একজন অলি, মুর্শিদ বা পীর। এই পথপ্রদর্শক ব্যতীত আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) কে পাওয়ার আর কোন উপায় নেই।